পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন মহিলা কল্যাণ মূলক সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্প — প্রতি মাসে ₹3000 সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সাহায্য।
Apply Online NowAnnapurna Bhandar Scheme পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী মহিলা কল্যাণ প্রকল্প। মূলত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ। যোগ্য মহিলারা এই স্কিমের আওতায় নিচের সুবিধাগুলো পাবেন:
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, পূর্বের বহুল প্রচলিত "লক্ষ্মীর ভান্ডার" প্রকল্পটির সংস্কার ঘটিয়ে নতুন অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প ২০২৬ (Annapurna Yojana) চালু করা হয়েছে। এর ফলে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অনেক বাড়ানো হয়েছে:
| বিষয় (Details) | পূর্বের লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) | বর্তমান অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar 2026) |
|---|---|---|
| মাসিক ভাতার পরিমাণ | ₹১,০০০ থেকে ₹১,৫০০ | ₹৩,০০০ (Flat) |
| বার্ষিক ভাতার পরিমাণ | ₹১২,০০০ থেকে ₹১৮,০০০ | ₹৩৬,০০০ |
| পেমেন্ট ব্যবস্থা | Direct Benefit Transfer (DBT) | Direct Benefit Transfer (DBT) |
বিশেষ নির্দেশিকা: পূর্বের লক্ষ্মীর ভান্ডারের নথিভুক্ত সুবিধাভোগীদের ধাপে ধাপে এই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। তবে নতুন বর্ধিত ৩,০০০ টাকার সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়া অথবা অনলাইনে ভেরিফিকেশন করা আবশ্যক।
Annapurna Bhandar Scheme 2026-এ আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই নিম্নোক্ত যোগ্যতার শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ না করলে আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল হয়ে যেতে পারে:
আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২৫ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স যাচাইকরণের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র বা স্কুল সার্টিফিকেটের মতো সরকারি নথি গ্রহণযোগ্য হবে।
এই প্রকল্পটি বিশেষভাবে মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য তৈরি। শুধুমাত্র নারী আবেদনকারীরাই (বিবাহিত, অবিবাহিত, বিধবা বা বিবাহবিচ্ছিন্না) এই প্রকল্পের আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ঠিকানার এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রমাণ হিসেবে ভোটার কার্ড (Voter ID) বা ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকা আবশ্যক।
আবেদনকারীর পারিবারিক মোট মাসিক আয় অবশ্যই ₹১০,০০০ (দশ হাজার) টাকার নিচে হতে হবে। সমাজের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেওয়াই এই স্কিমের মূল লক্ষ্য।
আবেদনকারীর নিজের নামে একটি সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। সরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টটির সাথে আধার কার্ড লিঙ্ক থাকা (Aadhaar Seeded) এবং ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) সক্রিয় থাকতে হবে। কোনো যৌথ (Joint) অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনকারী নিজে স্থায়ী কোনো সরকারি চাকরিজীবী হতে পারবেন না এবং নিয়মিত সরকারি বেতন বা পেনশনভোগী হলে এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন না। এছাড়া আবেদনকারী যেন আয়কর (Income Tax) দাতা না হন।
আবেদন করার সময়ে আবেদনপত্রের সাথে নিচের নথিপত্রগুলোর স্পষ্ট এবং স্ব-প্রত্যয়িত (Self-Attested) কপি জমা দিতে হবে:
আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ডের একটি স্পষ্ট ফটোকপি। আধার কার্ডে উল্লেখিত নামের বানান যেন অন্যান্য নথির সাথে মিল থাকে তা নিশ্চিত করুন।
আবেদনকারীর ভোটার পরিচয়পত্রের (EPIC Card) সামনের ও পিছনের দিকের স্পষ্ট জেরক্স কপি। এটি আপনার স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
আবেদনকারীর নিজস্ব সিঙ্গেল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার পরিষ্কার জেরক্স কপি, যেখানে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএস (IFS) কোড স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষ (যেমন- পঞ্চায়েত প্রধান, অঞ্চল প্রধান, পৌরপ্রধান, বা বিডিও/BDO) দ্বারা চলতি আর্থিক বছরের আয়ের আসল শংসাপত্র, যা মাসিক আয় ₹১০,০০০-এর কম হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করবে।
আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা অন্তত ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। ছবিগুলো আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট বক্সে আঠা দিয়ে লাগাতে হবে (স্ট্যাপল করবেন না)।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন — দুই মাধ্যমেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। নিচে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপে ধাপে বিবরণ দেওয়া হলো:
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নির্দেশিকা অনুযায়ী আপনার যোগ্যতা নিশ্চিত করুন। আপনার বয়স, বাসস্থান এবং আয়ের মানদণ্ডগুলো মিলছে কিনা তা পুনরায় যাচাই করে নিন।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্রের ফটোকপি তৈরি করে নিন এবং প্রত্যেকটির নিচে আবেদনকারীর নিজস্ব স্বাক্ষর বা টিপছাপ (Self-attested) দিয়ে প্রস্তুত রাখুন।
নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টাল (যেমন West Bengal Social Registry) থেকে অনলাইনে ফর্ম ডাউনলোড করতে পারেন অথবা আপনার স্থানীয় ব্লক অফিস (BDO) কিংবা পঞ্চায়েত/পৌরসভা কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। ফর্মে কোনো কাটাকাটি না করে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংকের তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
সম্পূর্ণরূপে পূরণ করা আবেদনপত্রের সাথে সমস্ত স্ব-প্রত্যয়িত নথিপত্র সংযুক্ত (Pin-up) করুন। এরপর আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) অফিসে অথবা আপনার বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর কাছে গিয়ে আবেদনপত্রটি সরাসরি জমা দিন। জমা দেওয়ার পর অফিস থেকে অবশ্যই প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বা রিসিভ কপি (Acknowledgement Receipt) সংগ্রহ করে নিজের কাছে যত্ন সহকারে রাখুন।
উত্তর: অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের অধীনে যোগ্য এবং অনুমোদিত মহিলা আবেদনকারীদের প্রতি মাসে ₹৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই টাকা সরাসরি আবেদনকারীর আধার সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে DBT ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হয়।
উত্তর: পূরণ করা আবেদনপত্র এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র আপনার এলাকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস (BDO) অথবা আপনার অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) কাছে গিয়ে সরাসরি জমা দিতে হবে। এছাড়া আয়োজিত স্থানীয় বিশেষ ক্যাম্পেও এটি জমা নেওয়া হয়ে থাকে।
উত্তর: হ্যাঁ, পূর্বের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের এই নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। তবে ৩,০০০ টাকা হারে নতুন সুবিধা উপভোগ করতে সমস্ত তথ্য নতুন নিয়মে যাচাই করা এবং নতুন ফর্ম বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
উত্তর: হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ডের লিঙ্ক বা সচল DBT (Direct Benefit Transfer) সার্ভিস সক্রিয় না থাকলে সরকারি ভাতার টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হতে পারবে না।
উত্তর: না, আবেদনকারীর নিজের নামে অবশ্যই একটি একক (Single) সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। কোনো যৌথ অ্যাকাউন্ট বা অন্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এই প্রকল্পের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
উত্তর: আপনার আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত রশিদ বা রিসিভ কপিতে উল্লেখিত অ্যাপ্লিকেশন আইডি ব্যবহার করে আপনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা পোর্টাল বা অন্নপূর্ণা যোজনার অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজের আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।